জ্বালানি তেল নিয়ে কদিন পর পর যেসব খবর প্রকাশিত হচ্ছে, এসব কেবলই প্রহসন! সাধারণ মানুষের যে ভোগান্তি হচ্ছে সেটা একেবারে গায়ে লাগাচ্ছে না সরকার, অন্তত সেরকম মনে হচ্ছে। কারণ কোনো জুৎসই সমাধান এখন পর্যন্ত বড় বড় কর্মকর্তার (পড়ুন কর্মবীর) মাথায় আসেনি। অথচ ভোগান্তি ইতিমধ্যে মহামারিতে রূপ নিতে যাচ্ছে।
আজ হঠাৎ করে খবর পাওয়া গেল পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফুয়েল পাস’ কার্যক্রম বাড়িয়েছে সরকার। হাস্যকর! কী হাস্যকর!
ঢাকার কোনো না কোনো ফুয়েল স্টেশনে প্রায় প্রতিদিনই হাঙ্গামা চলছে। যারা তেল ব্যবহার করে তাদের সঙ্গে কথা বলে জানলাম, ৩-৪ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ৫০০ টাকার, পাস থাকলে ১০০০/১২০০ টাকার তেল পাওয়া যাচ্ছে! এটা কি কোনো সমাধান? গাড়ির চালকেরা রীতিমতো সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন।
দেশে কোনো সংকট তৈরি হলে এক শ্রেণির দুষ্টুলোক সুযোগ নেয়। তেলের অবৈধ ব্যবসা শুরু করেছে খোদ তেলের পাম্পওয়ালারা, এমন খবরও কিন্তু আছে। সত্যিই যদি এ সমস্যার সমাধান করতে হয়, তাহলে একটু ভাবতে হবে যে এসব ফুয়েল পাস কি আদৌ কাজে আসবে?
ফুয়েল পাস দিয়ে তেল নিতেও ৩-৪ ঘণ্টাই লাগছে। অথচ একজন ব্যক্তি ট্যাঙ্কি ফুল করে নেওয়ার পর কিন্তু অন্তত ২-৩ দিন কেউ কেউ এক সপ্তাহ আরামসে চলতে পারে। যিনি নিয়মিত তেল নিচ্ছেন, ধরে নিতে হবে ওই ব্যক্তির তেলের ব্যবসা আছে। বাইক বা গাড়ির টাঙ্কি ভরে তেল নিয়ে গিয়ে তিনি বিক্রি করছেন।
এই সমস্যার একটা প্রাথমিক সমাধান মাথায় এসেছে। একটু শেয়ার করি।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেম চালু করা যেতে পারে। ধরেন তেল শেষ হয়ে যাবে যাবে, এ রকম সময়ে অনলাইনে বা অ্যাপে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া যাবে। কবে কখন তেল নেব সেটা তারিখ ও সময় উল্লেখ করে দেব। ওই দিনে ও ক্ষণে নির্দিষ্ট সংখ্যক বাইকার বা কারওয়ালা উপস্থিত থাকবে। তাহলে আর এত লম্বা লাইন হবে না।
কেমন হতে পারে সিস্টেমটা। অ্যাপয়েন্টমেন্ট অ্যাপ বা অনলাইন সিস্টেম বানানোই আছে। পুরোনো একটার ওপর হালকা কাজ করলেই এটা বানিয়ে ফেলা সম্ভব। কী বলেন?



