প্রশ্নটা অনেকের মাথায় এসেছে! যা হওয়ার কথা ছিল, তা যেহেতু হচ্ছে না, যা পাওয়ার কথা ছিল, তা যেহেতু পাওয়া যাচ্ছে না, তবে কি আবারও ফিরতে পারে জুলাই?
স্বাভাবিকভাবে এ প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে, হ্যাঁ। মাত্র তিন মাস পরই জুলাই ফিরছে। কিন্তু হাতাশা নিয়ে। জুলাই একটি চেতনার নাম। যে চেতনা বৈষম্যের বিরুদ্ধে মানুষকে জাগিয়ে তুলেছিল। বৈষম্যের বৈয়ম ভেঙে বেরিয়ে এসেছে সেলফ সেন্সরড জেন-জি। কিন্তু কী হচ্ছে এসব? তারা তো অবাক! তাদের উত্তর প্রজন্ম বলছে, মাত্র ১৭ বছর আগে চলমান একটা সিনেমার মাঝপথে বিদ্যুৎ চলে গিয়েছিল। অবশেষে বিদ্যুৎ এসেছে, যে পর্যন্ত দেখানো হয়েছিল, তার পর থেকে আবারও চালু হয়েছে সিনেমাটি। আগের অংশ দেখোনি বলে, পরের অংশ বুঝতে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে।
জেন-জিকে বলবো, ১৭ বছর আগের ই-পত্রিকা খুলে দেখো। তখন ভিডিওর এত বাড়াবাড়ি ছিল না। লেখা ও ছবি পেয়ে যাবে। তারপর বোধকরি তোমরা বুঝতে পারবে সিনেমার কাহিনি।
স্বৈ রা চা রে পৃথিবী ছেয়ে গেছে। একটা সময় থাকে, যখন ট্রেন্ড আসে একটা। দয়ালু শাসকের ট্রেন্ড চলে গেছে বহু আগে। পৃথিবী এখন দুষ্টু শাসকের। উত্তর-দক্ষিণ-পূর্ব-পশ্চিমে যারা বসে আছে, তাদের নাম নেবো না। তবে সেই দলটির সময় ফুরিয়ে এসেছে। একে একে ইনিংস শেষ করে গা ঢাকা দিতে শুরু করেছে তারা। দয়ালু শাসকেরা উঁিক দিতে শুরু করেছেন। ভুলে গেলে চলবে না যে, আমাদের এই অংশে আমরা দারুণ সব মানুষকে পেয়েছিলাম, যারা কেবল শাষক নয় ছিলেন প্রকৃত রাজনীতিক, যারা মানুষকে নিয়ে ভাবতেন। আমার তো খুব করে গান্ধীর কথা, সুভাষ বসুর কথা মনে পড়ে। খুব করে মনে পড়ে নেহেরুর কথা। কী একটা সময় ছিল এই অঞ্চলের। আক্ষেপ হয়, ভারত যদি ভাগ না হতো!
আমার হিসাব-নিকাশ বলে জুলাই আবারও ফিরবে। আরও ভয়াবহভাবে ফিরবে। তবে তাতে জুলাই-পক্ষীয় বা জুলাইবিরোধী কারও লাভ হবে না। লাভ হবে গুপ্ত শক্তির। আ. লীগ শিশুর হাতে মাখা পাউডারের মতো মাখামাখি করে ফেলেছে। কিছু উড়েও গেছে। বিএনপি পেরে উঠছে না। তাদের হাতে সময় সীমিত। পারফর্ম করতে না পারলে আরেকটা বড় ঝড় তাদের জন্য অপেক্ষা করছে। ওই ঝড়ে টিকে থাকা কঠিন হতে পারে তাদের জন্য। বলা বাহুল, অনেকবার বলেছি, লিখেছি, আ. লীগ বারবার সংগঠিত হয়েছে। এবার সংগঠিত হতে পারলে তারা হয়ে উঠবে আরও শক্তিশালী। আর না পারলে বাংলাদেশকে বড় মূল্য পরিশোধ করতে হবে। ‘বড় মূল্য’।



