সরকার বদলায়, গল্প বদলায়

লেখাটি শেয়ার করুন

Share on facebook
Share on linkedin
Share on twitter
Share on email

বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে একটা সিনেমা বানাবেন খিজির হায়াত খান। কিন্তু কোন গল্পের ওপর দাঁড়াবে ছবিটি? আ. লীগ যখন সরকার তখনকার গল্প, নাকি ইন্টেরিম যখন সরকার তখনকার গল্প? রায়হান রাফি ছবিটা বানালে এ প্রশ্ন করতাম না। কারণ সে গল্পের খিঁচুরি বানাতে ওস্তাদ; এরই মধ্যে বেশ কয়েক ধরণের খিঁচুরি সে দেখিয়েছে। খিজির কি খিঁচুরি পাক করতে পারবেন?

২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাস। কাঁটাবনে একটা প্রেসে কাজ করাচ্ছিলাম। হঠাৎ চারপাশ চঞ্চল হয়ে ওঠে। তারপর একের পর এক গল্প আসতে শুরু করে। সবশেষে যে গল্পটা জানলাম, [গল্প-১] নির্যাতন ও নিপীড়নের প্রতিশোধ নিতে বিডিআর কর্মকর্তাদের *ন করেছে সাধারণ সৈনিকেরা। [গল্প ২] ফখরুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) পরিচালিত অল্প-আয়ের জন সাধারণের জন্য কম দামে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সরবরাহের এক প্রকল্প অপারেশন ডাল-ভাত। সেটার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ এই বিদ্রোহের দ্বিতীয় গল্প। এটাকে গল্প বলা যাচ্ছে না, কারণ স্বয়ং বিচারকের পক্ষ থেকে এটি এসেছে।

ভয়ানক ঘটনা হচ্ছে, পিলখানা হ*কাণ্ডে বিডিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন, অন্যান্য সেনা কর্মকর্তা ও ১৭ জন বেসামরিক লোককে *ত্যা করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও এত অফিসার মারা যাননি। এটি ছিল এমন এক ভয়ানক ঘটনা যে, ওই সময় বেসামরিক লোকদের ওপর গুলি চালানো হয়েছিল, অনেক অফিসার এবং তাদের পরিবারকে জিম্মি করে, সম্পদ নষ্ট করা হয়েছিল। বিদ্রোহের দ্বিতীয় দিনে বিডিআর ক্যাম্প আছে এমন ১২টি এলাকায় অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। দেশ রীতিমতো অরক্ষিত হয়ে পড়েছিল!

তবে গল্প পরে বদলে যায়। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশন অভিযোগ করে যে, এর বিচারে আসামিদের পর্যাপ্ত সময়-সুযোগ দেওয়া হয়নি, [গল্প ৩] ‘নিষ্ঠুর প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষাকে সন্তুষ্ট করার জন্য বিচার-কাজ সাজানো হয়েছে’ বলে তারা অভিযোগ করে।

২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘটনাটি পুনরায় তদন্তের জন্য সাত সদস্যের একটি কমিশন গঠন করে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়, যেখানে বলা হয়, [গল্প ৪] এটা কোনো আকস্মিক বিদ্রোহ ছিল না, বরং পরিকল্পিত একটি অভিযান ছিল। প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয় যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা এতে জড়িত ছিলেন। এছাড়া আলামত নষ্ট করা এবং মূল তদন্তে তথ্যগত ফাঁক থাকার বিষয়টিও চিহ্নিত করা হয়।

এভাবে সরকার বদলের পর যখন গল্প বদলে যায়, তখন সাধারণ মানুষ কোনটি বিশ্বাস করবে? গণমাধ্যমকে মানুষ যে বিশ্বাস করেছিল, সেই বিশ্বাস কি এখনও অবশিষ্ট আছে? উত্তর হচ্ছে, না। গত কয়েক বছরে গণমাধ্যম আরও উলঙ্গ রূপে হাজির হয়েছে। জনতার পাশে থাকার কথা থাকলেও তাদের আমরা পাই শাসকের পাশে। এ কারণে বিকল্প গণমাধ্যম গড়ে উঠছে, আর মানুষ সেসবে আস্থা আনছে। সাধারণ জনতার তাই এখন উচিত হবে খুব সাবধানে কাটা বেছে মাছ খাওয়ার মতো, বেছে বেছে খবর বিশ্বাস করা আর ঝাপিয়ে পড়া। আর সিনেমা বানিয়ে যারা এসব স্পর্শকাতর ঘটনাকে বিকল্প নথিতে লিপিবদ্ধ করতে চান, তাদেরও যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। কারও পক্ষ নিয়ে মজলুমের বিরুদ্ধে যেন তাদের ন্যারেটিভ তৈরি না হয়।

লেখাটি শেয়ার করুন

Share on facebook
Share on linkedin
Share on twitter
Share on email

আরও লেখা

২০ নম্বরের জন্য শিক্ষক হতে পারেননি

পর্দা থেকে রীতিমতো নির্বাসনে চলে গিয়েছিলেন মেধাবী শিল্পী শামস সুমন। বাচিক শিল্পী হিসেবে কাজ শুরু করা সুমন পরিচিতি পেয়েছিলেন অভিনয়শিল্পী হিসেবে। তবে

বিস্তারিত...

আলো ভাগাভাগি করে বাঁচি

যে কোন পরামর্শ, সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ করুন