কত কেজি বহন করার ক্ষমতা আছে আপনার? ৪০? ৫০? বয়স কত? ২৫-৩০ বছর বয়সে যে ওজন আপনি বহন করতে পারবেন, ৪০-৪৫ বছর বয়সে পারবেন না। সে কারণে বয়স কম থাকতেই ভারি কাজগুলো শেষ করে ফেলা ভালো। তারপর ধীরে ধীরে হালকা কাজে চলে যেতে হবে। একটা পর্যায়ে আপনার কাজ হবে কেবল মুচকি হাসা। কারও মুখের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসবেন, সে আপনার জন্য জীবন দিয়ে দেবে বা আপনার পক্ষে ৪০-৫০ কেজি বহন করবে।
বিএনপির নেতা মির্জা আব্বাসের অচেতন একটা ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। যারা শেয়ার করছেন, তাদের পোস্টগুলো দেখে মনে হচ্ছে, দে লাভ দ্য ম্যান মাছ। ভদ্রলোকের এই অবস্থার জন্য তারা দায়ী করছেন ডারবি নাসির/ছাপড়ি নাসির/ বা আব্বাসের আসনে প্রতিদ্বন্দী করা নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারিকে। কী সহজ তাদের ভালোবাসার অঙ্ক। নাসির গালাগাল করেছে, সেই চাপে পড়ে আব্বাস কোমায় চলে গেছেন! এত কোমল হৃদয় আব্বাস সাহেবের যে, নাসিরের মতো একটা ছেলের মুখে মুহুর্মুহু ‘চান্দাবাজ’ শুনতে শুনতে তিনি আজ মরণাপন্ন!
আব্বাস আসলে এত সরল-কোমল নন। তিনি একজন বাঘা ও ঝানু রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী। নাসির যে তাকে মাফিয়া বলে, সেটারও কারণ আছে। আমাদের দেশের মানুষের যে কালচার, তাদের চালানো কোনো সাধারণ কাজ নয়। এই আনকালচার, আনকুৎ পাবলিক চালাতে মাফিয়া হওয়া ছাড়া উপায় নাই। সেই অর্থে তিনি মাফিয়াই। একটা বিরাট পরিবার বানিয়ে সেই পরিবারের সদস্য দিয়ে তিনি খিলগাঁও, কমলাপুর কনট্রোল করতেন। তিনি সফল। তিনি কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন তাতে সন্দেহ নাই। কিন্তু অত্র অঞ্চল কনট্রোলড।
তো রাজনীতি ও ব্যবসা করতে গিয়ে তাকে কম ব্রেন খাটাতে হয়নি। আমার বিশ্বাস তিনি আইনস্টাইনের থেকে বেশি ব্রেন ব্যবহার করেছেন। বিশ্বাস না করলে মৃত্যুর পর তাঁর ব্রেন নিয়ে গবেষণা করার প্রস্তাব দিয়ে রাখলাম আগ্রহীদের। এমনকি ভেবে দেখুন, হাসিনার আমলে বিএনপির ওপরের দিকের ৪-৫ জন বাদে সবগুলো নেতা যখন ডলা খেয়ে ডাইলপুরিতে গিয়ে ঢুকে বসেছিল, আব্বাস তখনও বহাল তবিয়তে ছিলেন। ডোন্ট আন্ডার এস্টিমেট আব্বাস! হি ইজ দ্য আব্বা অব অল পলিটিশিয়ান অব ঢাকা!
তিনি যে চান্দাবাজ ছিলেন, এইটা সরাসরি বলা যাবে না। তিনি কিছু লোক পোষেন। তারা বিভিন্ন জায়গায় যান, খান, নেন, ভাইকে খুশি রাখেন। ভাই কিছু বলেন না। তবে ভাইয়ের যেহেতু লোক তারা, তাদের তো কিছু দিতেই হবে। কিন্তু ভাই যদি কাউকে ধরে আনতে বলেন, তারা বেঁধে আনেন, বেঁধে আনতে বলে বেঁধে মারতে মারতে আনেন। এই এক স্কেল বাড়তি কাজগুলোর দায় ভাইয়ের কাঁধে গিয়ে পড়ে। সো, সব দোষ ভাইয়ের।
গণ-অভ্যুত্থানের পর আব্বাস ভাইকে যেভাবে ট্রল করা হয়েছে সেটা একটা কঠিন ট্রিটমেন্ট ছিল। শুধু ভাইয়ের অপকর্মের ট্রিটমেন্ট নয়, ভাইকে যারা রাজনীতির রোল মডেল ভাবেন, তাদের জন্যও। নয়া জামানার রাজনীতিতে কিঞ্চিত চেঞ্জ আনতে হবে এটা যারা বুঝতে পারছেন না, তাদের জন্যও। ভাই ছিলেন রাজা! সবাই কিন্তু দেখেছেন, ভাবী কীভাবে ভোটকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে ভোট গুনিয়েছেন। কিন্তু মুহুর্মুহু গালাগাল ভাই নিতে পারেননি, হয়তো। তার ওপর নাসিরের বিরুদ্ধে মামলার পর দল যেভাবে নোটিশ দিয়েছে সেটা ভাইকে আরও বড় ধাক্কা দিয়েছে। ফলাফল এই ছবি!
আব্বাস ভাইয়ের দ্রুত সুস্থ্যতা কামনা করি। কামনা করি, তিনি সুস্থ্য হয়ে ফিরে সুস্থ্য রাজনীতি করবেন। তার আর আগের মতো গ্যাঙস্টার হওয়ার দরকার নাই। তিনি মুচকি হাসলেই কাজ হয়ে যাবে।



